কোন কোন খাত অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে

উৎপাদন খাত থেকে —

  1. সিগারেট, মোবাইল ফোন, এমএস প্রোডাক্টস, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস, এবং পেইন্ট ও ভার্নিশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

সেবা খাত থেকে —

  1. ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI), এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অন্য সম্পর্কিত ব্যবসা বা সেবার জন্যও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত

এনবিআরের ভ্যাট নীতি উইং সদস্য মোঃ আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে মাত্র ৫০ শতাংশ ভ্যাট-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে, যদিও এতদিন eVAT পোর্টাল ব্যবহারে উৎসাহিত করা হলেও তা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ছিল না। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর এই ১১টি খাতকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের জন্য ভ্যাট আইনের ধারা ৬৪ সংশোধন করা হচ্ছে, এবং নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে পূর্বের সকল আদেশ ও সার্কুলার অকার্যকর বলে গণ্য হবে। এনবিআরের হাতে ভবিষ্যতে এই তালিকায় খাত যোগ বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতাও থাকছে।

বর্তমান পরিসংখ্যান

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে, যার মধ্যে ৪ লাখেরও কম অনলাইনে দাখিল করে থাকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে সব ভ্যাট-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনাই এনবিআরের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI)-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল চৌধুরী বলেন, তার কোম্পানি গত দুই বছর ধরে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে, যা কোম্পানির সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে — কারণ এখন তথ্য এন্ট্রি করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিবেট দাবি ও গ্রহণ করা যাচ্ছে। আগে তাদেরকে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে তিন কপি রিটার্ন এবং বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জমা দিতে হতো।

তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন, সকল ব্যবসার জন্য e-invoicing চালু করা উচিত, যাতে স্থানীয় ক্রয়কেও (local procurement) অনলাইন সিস্টেমের আওতায় আনা যায়।

সংক্ষিপ্ত তুলনা


বিষয়

তথ্য

সংশোধিত হচ্ছে

ভ্যাট আইনের ধারা ৬৪

অন্তর্ভুক্ত খাত সংখ্যা

১১টি (৮টি উৎপাদন + ৪টি সেবা)

বর্তমানে অনলাইনে রিটার্নদাতা

প্রায় ৫০% (৪ লাখেরও কম প্রতিষ্ঠান)

মোট ভ্যাট রিটার্নদাতা

প্রায় ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান

প্রকল্প

World Bank-অর্থায়িত VAT Online Project


প্র্যাকটিক্যাল তাৎপর্য — ক্লায়েন্টদের জন্য পরামর্শ

যদি আপনার প্রতিষ্ঠান এই ১১টি খাতের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে গেজেট জারি হওয়ার সাথে সাথেই আপনার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে (eVAT পোর্টালে) দাখিল করতে হবে — শুধু মূল ব্যবসা নয়, সম্পর্কিত অন্য ব্যবসা বা সেবার জন্যও।

  1. সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ ও ভ্যাট টিমকে এখনই eVAT পোর্টালে দক্ষ করে তোলা শুরু করুন।
  2. প্রয়োজনীয় ডেটা (ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার, ইনপুট-আউটপুট রেকর্ড) ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রস্তুত রাখুন।
  3. গেজেট প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে প্রযোজ্যতা যাচাই করুন — মূল ব্যবসা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায়িক ইউনিট এই বাধ্যবাধকতার আওতায় পড়ছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
  4. প্রয়োজনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া চালু করার সহায়তা নিন।


সূত্র: The Financial Express, "Online VAT-return submission mandatory for more businesses," প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এই প্রতিবেদনটি কেবল তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি আইনি বা পেশাগত পরামর্শ হিসেবে গণ্য হবে না।