THE CORPORATE TIMES
NEWS
thecorporatetimes.com
Generated 05 Sep 2026
Tax & VAT

“আয় গোপন” আর “কর-অব্যাহতি দাবি”-এর মধ্যে সীমারেখা টেনে দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

By The Corporate Times Editorial Team — Editorial Team — The Corporate Times  ·  03 September 2026
আদেশ নং-০৩/২০২৬ — আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭২-এর প্রয়োগ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিল এনবিআর গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আদেশ নং-০৩/২০২৬ জারি করেছে, যা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৭২ (জরিমানা আরোপ সংক্রান্ত ধারা) প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটা দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করার চেষ্টা করেছে। এই আদেশটি আয়কর আইনের ধারা ৩৪২-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে, এবং এতে সাতটি ভিন্ন আয়ের খাত ধরে ধরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে — ঠিক কোন পরিস্থিতিতে একজন করদাতার বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা যাবে, আর কোন পরিস্থিতিতে যাবে না। এই আদেশটা করদাতা, কর পরামর্শক ও কর কর্মকর্তা — সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা মূলত একটা মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে: একজন করদাতা যদি কোনো আয়কে “করমুক্ত” মনে করে ভুল দাবি করেন, সেটা কি “আয় গোপন করা”-র সমান অপরাধ? আসুন সহজভাবে বুঝি।

প্রথমে বুঝি — এই আদেশের পেছনের মূল নীতিটা কী

আদেশে প্রথমেই একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান নেওয়া হয়েছে —

“আয়কর আইনের অংশ ১৯-এ উল্লিখিত সকল ধরনের জরিমানা আরোপের জন্য সংশ্লিষ্ট করদাতা বা ব্যক্তির শুনানি গ্রহণ বা শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান বাধ্যতামূলক।”

অর্থাৎ, কোনো করদাতার ওপর জরিমানা বসানোর আগে তাকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার একটা সুযোগ (শুনানি) দিতেই হবে — এটা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর ভিত্তিতে আদেশে বলা হয়েছে, যখন কোনো মামলা আপিলে যায়, তখন উপকর কমিশনার (আপিল)-কে দুই ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে হবে —

1. প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে — এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আসলেই ধারা ২৭২-এর জরিমানা প্রযোজ্য কিনা।

2. যদি প্রযোজ্য হয়, তাহলে একই আদেশে জরিমানা আরোপ করবেন। যদি প্রযোজ্য না হয়, তাহলে জরিমানা আরোপ করবেন না।

এখন প্রশ্ন হলো — “প্রযোজ্য কিনা” এটা বোঝার মূলনীতিটা কী? এখানেই আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু হয়।

মূল নীতি: “আয় গোপন করা” বনাম “ভুল দাবি করা” — এই দুইটা এক জিনিস নয়

আদেশে সাতটি আয়ের খাত (চাকরি, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা/পেশা, মূলধনী আয়, আর্থিক পরিসম্পদ, এবং অন্যান্য উৎস) ধরে ধরে ব্যাখ্যা করা হলেও, প্রতিটা খাতেই আসলে একই মূলনীতি বারবার প্রয়োগ করা হয়েছে। এই মূলনীতিটা একবার বুঝে নিলে, বাকি সব খাতের ব্যাখ্যা আপনার কাছে সহজ হয়ে যাবে।

নীতিটা হলো: একজন করদাতা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারা ২৭২-এ জরিমানা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন তিনি —

1. কোনো আয়ের খাত সম্পূর্ণভাবে গোপন করেছেন (অর্থাৎ, সেই আয়ের কথা রিটার্নে উল্লেখই করেননি), অথবা

2. কোনো আয়ের পরিমাণ অসত্যভাবে কম দেখিয়েছেন (প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে কমিয়ে দেখানো)।

কিন্তু জরিমানা প্রযোজ্য হবে না, যদি করদাতা —

1. আয়ের খাতটা রিটার্নে প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সেটাকে ভুলভাবে “করমুক্ত আয়” (tax-exempt income) হিসেবে দেখিয়েছেন, অথবা

2. আইনের কোনো নির্দিষ্ট বিধান (compliance requirement) পরিপালন না করার কারণে সেই আয়টা করযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

একটা সহজ উপমা দিয়ে বুঝি: এই দুইটার পার্থক্য অনেকটা একজন ছাত্রের পরীক্ষার খাতার মতো। যদি একজন ছাত্র কোনো প্রশ্নের উত্তরই না লিখে খালি রাখেন (গোপন করা), সেটা এক ধরনের সমস্যা। কিন্তু যদি তিনি উত্তরটা লেখেন, তবে ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করে ভুল উত্তরে পৌঁছান (ভুল দাবি বা ব্যাখ্যাগত ত্রুটি), সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সমস্যা। NBR-এর এই আদেশ বলছে, শুধু প্রথম ধরনের ক্ষেত্রেই জরিমানা প্রযোজ্য — দ্বিতীয় ধরনের ক্ষেত্রে নয়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটা হলো — শুধু সন্দেহ বা প্রাক্কলনের (estimation) ভিত্তিতে জরিমানা বসানো যাবে না। আয় গোপন বা মিথ্যা প্রদর্শনের সপক্ষে গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ (documentary evidence) থাকতে হবে।

সাতটি আয়ের খাতে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝি

১. চাকরি হইতে আয় (Income from Employment)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন চাকরিজীবী তার বেতনের পাশাপাশি একটা কোম্পানি থেকে নিয়মিত “কনসালটেন্সি ফি” পান, কিন্তু সেই আয়ের কথা রিটার্নে একদমই উল্লেখ করেননি — এটা সম্পূর্ণ আয় গোপন করার উদাহরণ, যেখানে জরিমানার প্রযোজ্যতা থাকবে।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন একই ব্যক্তি তার একটা ভাতা (allowance) রিটার্নে দেখিয়েছেন, কিন্তু সেটাকে ভুলভাবে “করমুক্ত” হিসেবে দাবি করেছেন, অথচ আয়কর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেটা আসলে করযোগ্য ছিল। এখানে তথ্য গোপন করা হয়নি, শুধু একটা আইনি ব্যাখ্যায় ভুল হয়েছে — তাই জরিমানার প্রযোজ্যতা নেই।

২. ভাড়া হইতে আয় (Income from Rent)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন ব্যক্তির দুইটা বাড়ি ভাড়া দেওয়া আছে, কিন্তু রিটার্নে শুধু একটা বাড়ির ভাড়ার আয় দেখিয়েছেন, দ্বিতীয়টার কথা একেবারেই উল্লেখ করেননি — এটা সরাসরি গোপন করার উদাহরণ।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন তিনি বাড়ির ভাড়ার আয় রিটার্নে দেখিয়েছেন, কিন্তু ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণে একটা যৌক্তিক প্রাক্কলন (reasonable estimate) ব্যবহার করেছেন, যা পরবর্তীতে কর কর্মকর্তার মূল্যায়নে কিছুটা কম মনে হয়েছে। আদেশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে — শুধু “যৌক্তিক ভাড়ামূল্য প্রাক্কলন”-কে ভিত্তি করে জরিমানা বসানো যাবে না, যদি না তার সাথে প্রকৃত গোপন করার দালিলিক প্রমাণ থাকে।

৩. কৃষি হইতে আয় (Agricultural Income)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন কৃষিজমির মালিক ফসল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটা বড় অংশ রিটার্নে না দেখিয়ে সম্পূর্ণ গোপন রেখেছেন।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন তিনি কৃষি আয় দেখিয়েছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ডকুমেন্টেশন সংক্রান্ত বিধান (যেমন উৎপাদন সংক্রান্ত প্রমাণপত্র সংরক্ষণ) পরিপালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই আয় করযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে — এখানেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আয় প্রকাশ করা, গোপন করা নয়।

৪. ব্যবসা বা পেশা হইতে আয় (Income from Business or Profession)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন ব্যবসায়ী তার বিক্রয়ের একটা অংশ (যেমন নগদে হওয়া লেনদেন) হিসাবের খাতায় না দেখিয়ে সেই আয়টা সম্পূর্ণ আড়াল করেছেন।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন তিনি ব্যবসার সব আয় দেখিয়েছেন, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট আয়ের অংশকে ভুলভাবে করমুক্ত পণ্য/সেবা বিক্রয়জনিত আয় হিসেবে দাবি করেছেন। এখানে “লুকানো”-র প্রশ্ন নেই, বরং একটা শ্রেণিবিন্যাসগত ভুল হয়েছে।

৫. মূলধনী আয় (Capital Gains)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন ব্যক্তি একটা জমি বিক্রি করে যে মূলধনী মুনাফা অর্জন করেছেন, তার পুরো লেনদেনটাই রিটার্নে গোপন রেখেছেন।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন তিনি জমি বিক্রয়ের তথ্য প্রকাশ করেছেন, কিন্তু আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও সেটাকে “করমুক্ত মূলধনী আয়” বলে ভুলভাবে দাবি করেছেন।

৬. আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় (Income from Financial Assets)

জরিমানা প্রযোজ্য হবে: ধরুন একজন ব্যক্তির একটা ব্যাংক এফডিআর (FDR)-এর সুদ আয় আছে, যা তিনি সম্পূর্ণভাবে রিটার্নে গোপন রেখেছেন।

জরিমানা প্রযোজ্য হবে না: ধরুন তিনি সুদ আয়টা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো সঞ্চয় উপকরণের সুদকে ভুলভাবে করমুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে তা করযোগ্য ছিল।

৭. অন্যান্য উৎস হইতে আয় (Income from Other Sources) — একটু বিশেষ মনোযোগ দরকার

এই খাতটা একটু বেশি জটিল, কারণ এখানে আদেশে একটা অতিরিক্ত সূক্ষ্ম পার্থক্য টানা হয়েছে, যা অন্য কোনো খাতে নেই।

সাধারণভাবে, এই খাতেও একই মূলনীতি প্রযোজ্য — আয় গোপন বা মিথ্যা প্রদর্শনে জরিমানা প্রযোজ্য, ভুল দাবি বা কমপ্লায়েন্স-জনিত কারণে অপ্রযোজ্য। কিন্তু আদেশে অতিরিক্তভাবে বলা হয়েছে —

“উপকর কমিশনার কর্তৃক আয়কর আইনের ধারা ৬৭ এর উপ-ধারা (৩) ব্যতীত অন্যান্য উপ-ধারা প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে যদি কোনো করদাতা বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘অন্যান্য উৎস হইতে আয়’ উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে... ধারা ২৭২-এ জরিমানা আরোপের প্রযোজ্যতা নাই। তবে, ধারা ৬৭ এর উপ-ধারা (৩) এর প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘অন্যান্য উৎস হইতে আয়’ এর উদ্ভব হইলে, উক্ত আয়ের উপর ধারা ২৭২ অনুযায়ী জরিমানা আরোপের প্রযোজ্যতা রহিয়াছে।”

সহজ কথায় এটা কী বোঝাচ্ছে: আয়কর আইনের ধারা ৬৭-এ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একটা আয়কে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” হিসেবে ধরে নেওয়ার (deem করার) বিধান আছে। এর মধ্যে উপ-ধারা (৩) একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত। আদেশ অনুযায়ী —

  1. যদি অন্য কোনো উপ-ধারার প্রয়োগে (৬৭(৩) ব্যতীত) একটা আয় “অন্যান্য উৎস”-এ ধরা হয়, তাহলে সেই আয়ের ওপর জরিমানা প্রযোজ্য নয়।
  2. কিন্তু যদি নির্দিষ্টভাবে উপ-ধারা (৩)-এর প্রয়োগে সেই আয় নির্ধারিত হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে জরিমানা প্রযোজ্য হবে — তবে এখানেও একই শর্ত বলবৎ থাকবে: শুধু প্রাক্কলনের ভিত্তিতে নয়, প্রকৃত গোপন করার গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ থাকতেই হবে।

প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শ: যদি আপনার ক্ষেত্রে কোনো আয় “অন্যান্য উৎস” হিসেবে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমেই যাচাই করা প্রয়োজন — এটা কি ধারা ৬৭(৩)-এর অধীনে নির্ধারিত হয়েছে, নাকি অন্য কোনো উপ-ধারায়? এই একটা প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে জরিমানার প্রযোজ্যতা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ: “দালিলিক প্রমাণ” ছাড়া জরিমানা নয়

আদেশে প্রতিটা খাতের ব্যাখ্যার শেষে একই সতর্কবার্তাটা বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে —

“...কর ফাঁকি সংঘটনের গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণক (evidence) ব্যতিরেকে শুধু [নির্দিষ্ট খাতের] আয় প্রাক্কলন... ২৭২ ধারায় জরিমানা আরোপের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হইবে না।”

এই বারবার পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, NBR এই বার্তাটাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে চেয়েছে — কর কর্মকর্তারা যেন শুধু অনুমান বা প্রাক্কলনের ভিত্তিতে করদাতার ওপর জরিমানা না বসান। জরিমানা আরোপের জন্য একটা বাস্তব, দালিলিক ভিত্তি (documentary basis) থাকা আবশ্যক।

করদাতা ও কর পরামর্শকদের জন্য প্র্যাকটিক্যাল করণীয়

আপনি যদি একজন করদাতা হন:

1. আপনার আয়ের কোনো খাত রিটার্নে উল্লেখ না করে থাকলে, তা দ্রুত সংশোধন করে নিন — এটাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, যেখানে জরিমানার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

2. যদি আপনি কোনো আয়কে “করমুক্ত” দাবি করেন, তাহলে সেই দাবির পেছনে আইনের কোন নির্দিষ্ট ধারা বা শর্ত প্রযোজ্য, তা স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত রাখুন — এটাই প্রমাণ করবে যে আপনার উদ্দেশ্য গোপন করা ছিল না, বরং একটা যুক্তিসঙ্গত আইনি অবস্থান নেওয়া ছিল।

3. যদি কর কর্মকর্তা কোনো জরিমানা আরোপ করেন, তাহলে যাচাই করুন — সেই জরিমানা কি প্রকৃত গোপন করার দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে, নাকি শুধু একটা প্রাক্কলন বা অনুমানের ভিত্তিতে বসানো হয়েছে। পরেরটা হলে, আপিলে এই আদেশটা আপনার পক্ষে একটা শক্তিশালী যুক্তি হতে পারে।

আপনি যদি একজন কর পরামর্শক বা অ্যাকাউন্ট্যান্ট হন:

1. ক্লায়েন্টের জরিমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল করার আগে, প্রথমেই যাচাই করুন সংশ্লিষ্ট আয়ের খাতটা কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে, এবং “গোপন করা” নাকি “ভুল দাবি করা” — কোন পরিস্থিতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

2. “অন্যান্য উৎস হইতে আয়”-এর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে যাচাই করুন — নির্ধারণটা ধারা ৬৭(৩) থেকে এসেছে, নাকি অন্য কোনো উপ-ধারা থেকে।

3. শুনানির সুযোগ ঠিকমতো দেওয়া হয়েছিল কিনা তা সবসময় প্রথমেই পরীক্ষা করুন — যেহেতু আদেশে এটাকে “বাধ্যতামূলক” বলা হয়েছে, শুনানি না দিয়ে বসানো যেকোনো জরিমানা প্রক্রিয়াগতভাবেই চ্যালেঞ্জযোগ্য।

সারকথা

এই আদেশের মূল বার্তাটা একটা বাক্যে বলা যায় — আয়কর আইনের ধারা ২৭২-এর জরিমানা একটা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, যা শুধু প্রকৃত অসততা বা তথ্য গোপনের জন্য প্রযোজ্য, আইনি ব্যাখ্যায় ভিন্নমত বা সরল ভুলের জন্য নয়। এই স্পষ্টীকরণ একদিকে যেমন করদাতাদের অহেতুক জরিমানার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে, তেমনি অন্যদিকে কর কর্মকর্তাদের জন্যও একটা স্পষ্ট মানদণ্ড তৈরি করে দিল, যার ভিত্তিতে তারা সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আদেশ নং-০৩/২০২৬, স্মারক নং-০৮.০১.০০০০.০৩০.০১১.০০৩.১২/১১৩, তারিখ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।